চৈনিক গণিত: হারিয়ে যাওয়া গণিতের বিস্ময়
খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালের দিকে চিনারা স্বতন্ত্র লিপিমালার উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছিল। একই সহস্রাব্দে চিনের প্রথম সম্রাট (খ্রিস্টপূর্ব ২৮৫২- ২৭৩৭) হিসেবে আবির্ভূত হন ফু সি (Fu Hsi)। ফু সি কে চিনের ইতিহাসে অন্যতম পৌরাণিক চরিত্র হিসেবেও ধরা হয়। তাঁকে চিনের বিখ্যাত ট্রাইগ্রামস এর আবিষ্কারক হিসেবে মনে করা হয়। প্রাচীনকালের চিনারা কচ্ছপের খোলসকে আগুনে পুড়ে এমন এক ধরনের পর্যায়ে নিয়ে আসত যখন খোলসের উপরের দিকে কিছু রেখার মত চিত্র দেখতে পায় যার কিছু সংখ্যক ছিন্ন ও কিছু বিচ্ছিন্ন। মনে করা হতো এ রেখাগুলো দৈববাণী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এর কোন গূঢ় অর্থ আছে। এমন অবস্থার কচ্ছপের খোলসগুলোর উপরের এ রেখাগুলোর তাৎপর্য উদ্ধার করার জন্য এগুলো তখনকার ধর্মীয় পুরোহিতদের দেওয়া হত। এ রেখা থেকে ধর্মীয় পুরোহিতরা নিজেদের জাহির করত ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে। ধারণা করা হয়, কচ্ছপের খোলসের এ রেখা থেকেই ফু সি ট্রাইগ্রামস এর উদ্ভাবন করেন (divination.com)। ট্রাইগ্রাম নিয়ে চিনে অনেক পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। একটি হল এমন, ‘খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে চিনের প্রথম সম্রাট (খ্রিস্টপূর্ব ২৮৫২- ২৭৩৭), ফু সি (Fu Hsi), পীত নদী (Yellow River) থেকে একটি কচ্ছপ উঠে আসতে দেখলেন। তিনি কচ্ছপের খোলসে ট্রাইগ্রামসের অনুরূপ আটটি চিহ্ন দেখতে পেলেন। তিনি মনে করলেন এ ট্রাইগ্রামসগুলো রহস্যময় এবং এগুলো থেকেই পৃথিবীতে জীবনের শক্তি প্রতিসরিত হয়। এ থেকে তিনি মনে করলেন প্রকৃতির প্রত্যক্ষ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ থেকে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা যায়।’ এ রকম অনেক কল্প-কথার প্রচলন রয়েছে সমগ্র চিন জুড়েই। তবে এসকল উপকথা বা পৌরাণিক গল্প-কথার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।